আত্মবিশ্বাসী নাসির শুধু উপভোগ করে যাচ্ছেন…

এসএম নিউজ অনলাইনঃ নঅস্ট্রেলিয়া সিরিজ সামনে রেখে চট্টগ্রামে ৩ দিনের প্রস্তুতি ম্যচের দ্বিতীয় দিনে ৩টি করে চার-ছক্কায় ৬২ রানের ঝকঝকে একটি ইনিংস খেলেছেন বহু আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেওয়া জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাসির হোসেন। ইনিংসটিতে তিন অংকের আফসোস থাকলেও তাকে খুব সাবলীল মনে হয়েছে এদিন। নিজেকে বারবার প্রমাণ করার পরও দলে জায়গা পাকা করতে না পারা নাসির দিনশেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জানালেন, তিনি সেই আগের মতই মানসিকভাবে শক্ত আর আত্ববিশ্বাসী আছেন।

বিষয়টা এমন যে, নাসির আর জাতীয় দলে প্রবেশের জন্য ‘বিশেষ কিছুর’ কথা ভাবছেন না। আসলে এতবার প্রত্যাখ্যাত হয়ে তার মনটাই হয়তো ভেঙে গেছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বললেন, ‘প্রস্তুতি ম্যাচে ভালো করে নজর কাড়তে হবে, এরকম কিছু ছিল না ভাবনা। আমি স্রেফ উপভোগ করছি। অনেক দিন পর লাল বলে ব্যাট করেছি। ভালো লাগছিল খুব। উইকেটে সময় কাটিয়েছি, অনেকক্ষণ ব্যাট করছিলাম। সেঞ্চুরি হলে অবশ্যই ভালো হতো।

আপনি উইকেটে যত সময় ব্যাট করবেন, ততই খেলায় উন্নতি হবে। ‘

তারপরও নির্বাচকদের সামনে এমন একটা ইনিংস খেলে নাসির কতটুকু স্বস্তিতে আছেন? কারণ কয়েকদিন পরেই তো দল ঘোষণা হবে প্রথম টেস্টের জন্য। নাসির সেই আগের মতোই বললেন, ‘আমার আসলে কোনো কিছুই মনে হচ্ছে না। আমি চেষ্টা করছি প্রস্তুতি ম্যাচ থেকে যতটা আউটপুট নেওয়া যায়। অনেক দিন থেকে আমি টেস্ট ম্যাচ বা বড় দৈর্ঘের ম্যাচ খেলিনি। চাই চেষ্টা করেছি কিভাবে ইনিংস বড় করা যায়। হয়ত আরও বড় করতে পারতাম, আউট হয়ে গেছি। তবে, সত্যি কথা আমার মাথায় ওরকম কিছু নেই। ‘

ক্যারিয়ার উত্থান পতন থাকবে এটা মেনে নিয়েছেন নাসির। তবে জাতীয় দলে ফেরার লড়াইয়ে তিনি আগের মন্ত্রেই দীক্ষিত। মনকে শক্ত রেখেছেন; যখনই সুযোগ পাচ্ছেন নিজেকে প্রমাণের চেষ্টা করছেন। তিনি বললেন, ‘যেহেতু ক্রিকেটার হয়ে জন্মগ্রহণ করেছি, ভালো-খারাপ সময় আসবেই। ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি, মানসিকভাবে শক্ত থাকলে ফেরা কঠিন নয়। আমি মানসিকভাবে শক্ত আছি। জানি যে ভালো করলে আবার আগের জায়গায় যেতে পারব। ‘

কিন্তু এর চেয়েও বড় বাস্তবতা হলো, জাতীয় দলে এখন বেশ কয়েকজন স্পিনিং অলরাউন্ডার আছেন। বিশেষ করে তরুণ মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত কোচ এবং নির্বাচকদের বেশ আস্থা অর্জন করেছেন। তাই নাসিরের প্রতিদ্বন্দ্বীও জুটে গেছে।  এই সুস্থ প্রতিযোগিতাকে অবশ্য স্বাভাবিকভাবেই নেন নাসির।

তার ভাষায়, ‘প্রতিযাগিতা থাকা অবশ্যই ভালো। প্রতিযেগিতা থাকলেই বোঝা যাবে আমি কোথায় আছি, কোন জায়গায় উন্নতি করতে হবে। আমার ক্ষেত্রে বলেন বা যার ক্ষেত্রেই হোক, সবার জন্যই ভালো। আগে এতটা ছিল না প্রতিযোগিতা, এখন আছে। এতেই বোঝা যাচ্ছে বাংলাদেশের ক্রিকেট উন্নতি করছে। জাতীয় দলের যারা নিয়মিত, তারাও জানে টিকে থাকতে হলে ভালো করতে হবে।

আপনার মন্তব্য দিন

আপনার ই-মেইল এড্রেস প্রকাশ হবে না। Required fields are marked *