গুগলকে ২৭০ কোটি ডলার জরিমানা করেছে ইইউ

এসএম নিউজ ডেস্ক : গুগলের সার্চ ফলাফলের অপব্যবহার করার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি জায়ান্ট গুগলকে রেকর্ড ২৭০ কোটি ডলার (২৪২ কোটি ইউরো) জরিমানা করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।

ইউরোপে গুগলের সার্চ ফলাফলে ‘নিজেদের পণ্য’ আগে দেখানোর মাধ্যমে বাজারে জনপ্রিয় এ সেবাটিকে অনৈতিক ব্যবহারের অভিযোগ করেছে ইইউ। সার্চ ইঞ্জিন ব্যবহার করে গুগলের অন্য পণ্য, বিশেষ করে শপিং ব্যবসায় ট্রাফিক টেনে নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।

বিবিসি ও দ্য ইনডিপেন্ডেন্ট জানিয়েছে, মঙ্গলবার ইউরোপীয় কমিশনের প্রতিযোগিতাবিষয়ক কমিশন এক রায়ে বলেছে, গুগল যদি আরো জরিমানার মুখোমুখি হতে না চায়, তাহলে ৯০ দিনের মধ্যে তাদের ওই অনৈতিক আচরণ বন্ধ করতে হবে। গুগল এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার কথা বিবেচনা করছে।

ইউরোপীয় কমিশন বলেছে, অসদাচরণ শোধরানোর জন্য গুগলের হাতে তিন মাস সময় আছে। এই সময়ের মধ্যে গুগল তার আচরণে পরিবর্তন না আনলে গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেটের বিশ্বজুড়ে দৈনিক গড় আয়ের পাঁচ শতাংশ করে জরিমানা প্রদানে বাধ্য করা হবে।

প্রতিষ্ঠানটির সর্বশেষ আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে এই জরিমানা হতে পারে দৈনিক প্রায় এক কোটি ৪০ লাখ ডলার। প্রতিযোগিতাবিমুখ এই আচরণ গুগল কীভাবে সংশোধন করবে, রায়ে তা ঠিক করার ভার গুগলের ওপরই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

এই রায়ের বিষয়ে ইউরোপীয় কমিশনের প্রতিযোগিতাবিষয়ক কমিশনার মারগ্রেথ ভেস্টেজার বলেছেন, ‘গুগল যা করেছে তা ইউরোপীয় ইউনিয়নের অ্যান্টিট্রাস্ট আইন অনুসারে অবৈধ। প্রতিষ্ঠানটি বাজারে অন্য প্রতিযোগীদের মেধার ভিত্তিতে প্রতিযোগিতার এবং উদ্ভাবনের সুযোগ নষ্ট করেছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি ইউরোপের ভোক্তাদেরকে প্রতিযোগিতামূলক বাজারের সুবিধা থেকে বঞ্চিত করেছে।’

ইউরোপীয় কমিশন জরিমানার পরিমাণ সম্পর্কে বলেছে, গুগলের কার্যক্রমের স্থায়িত্ব ও গুরুত্ব বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। গুগলকে তাদের একচেটিয়া চর্চা পরিবর্তন ও প্রতিদ্বন্দ্বী সেবাগুলোকে নিজের সেবার মতোই গুরুত্ব দিয়ে প্রদর্শনের জন্য তিন মাসের সময় পাবে।

গুগল জরিমানার বিষয়টি পর্যালোচনা করে এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার কথা ভাবছে। গুগলের জেনারেল কাউন্সেল কেন্ট ওয়াকার বলেন, ‘আমরা এই রায়ের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেই দ্বিমত পোষণ করছি। আপিল করার লক্ষ্যে আমরা রায়ের পূর্ণ বিশ্লেষণ করব।’ অনলাইন শপিং ব্যবসাকে পরিচালনা করার বিষয়টির পক্ষে যুক্তি দিয়ে গুগল বলছে, এটা ব্যবহারকারী ও বিজ্ঞাপনদাতাদের মধ্যে এমনভাবে সম্পর্ক তৈরি করে, যা উভয়ের জন্যই দরকারি।

গুগলের মতে, অ্যামাজন ও ইবে বরং ভোক্তাদের খরচের ওপর অনেক বেশি প্রভাব রাখে। প্রতিষ্ঠানটি বরাবরই দায়ের করা অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে।

গুগলের এক মুখপাত্র বলেছেন, ‘আপনি যখন অনলাইনে কেনাকাটা করেন আপনি চাইবেন আপনার কাঙ্ক্ষিত পণ্যটি সহজে পেতে। বিজ্ঞাপনদাতারাও ওইসব পণ্যেরই প্রচার চায়। যে কারণে গুগল ক্রেতাদের বিজ্ঞাপন দেখায় যা বিজ্ঞাপনদাতা ও ভেক্তাদের সম্মিলন ঘটায়। এটা দুপক্ষের জন্যই ভালো।’

কোনো ভোক্তা যখন গুগলে কোনো পণ্যের খোঁজ করেন, গুগল তখন সার্চ ফলাফলের ওপরে ‘স্পন্সর্ড’ শিরোনামে সংশ্লিষ্ট পণ্যের ছবি, মূল্য ও ক্রেতা রিভিউ প্রদর্শন করে। এই শ্রেণিতে গুগল সেসব প্রতিষ্ঠানের পণ্যই প্রদর্শন করে যেগুলোর জন্য উৎপাদক প্রতিষ্ঠান গুগলকে অর্থ পরিশোধ করেছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় একজন ক্রেতা যখন গুগলে কোনো খেলনার খোঁজ করেন, সার্চ ফলাফলের ওপরে ‘স্পন্সর্ড’ অংশে গুগল নির্দিষ্ট নির্মাতার খেলনাই দেখায় যারা গুগলকে বিজ্ঞাপন দেয়।

গুগল ইউরোপীয় ইউনিয়নের যে ১৩টি দেশে তাদের শপিং সেবা চালু করেছে সবখানেই এ আচরণ করেছে। ২০০৮ সালে জার্মানি ও যুক্তরাজ্য, ২০১৩ সালে অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, ডেনমার্ক, নরওয়ে, পোল্যান্ড ও সুইডেনে এ আচরণ করে গুগল। গুগলের পরিকল্পনার প্রভাবে গুগলের তুলনামূলক শপিং সেবার ব্যববহারকারী বেড়েছে। গুগলের প্রতিদ্বন্দ্বীরা অভিযোগ করেছে, গুগলের ট্রাফিক বাড়লেও তাদের ব্যবসা টেকাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

বেশ কয়েক বছর ধরেই ইইউয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে গুগলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে আসছে গুগলের প্রতিদ্বন্দ্বীরা। গুগলের একচেটিয়া আচরণ নিয়ে ইউরোপীয় কমিশন গত সাত বছর ধরে তদন্ত করছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের প্রতিদ্বন্দ্বীর কাছ থেকে এক ডজনের বেশি অভিযোগ পাওয়ার পর ইইউ অনুসন্ধান শুরু করে।

আপনার মন্তব্য দিন

আপনার ই-মেইল এড্রেস প্রকাশ হবে না। Required fields are marked *