জনপ্রিয় হচ্ছে উড়োচিঠি!

এসএম নিউজ অনলাইনঃ সারাহাহ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে চলছে মাতামাতি। যারা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ব্যবহার করেন, তারা নিশ্চয়ই ‘সারাহাহ’ থেকে পোস্ট করা বার্তা নিউজফিডে খেয়াল করেছেন। অ্যাপটি তৈরি করেছেন সৌদি আরবের তরুণ ডেভেলপার জায়ান আল-আবিদিন তৌফিক। সারাহাহ আরবি শব্দ। এর অর্থ সৎ বা অকপটতা। কর্মক্ষেত্রে প্রতিক্রিয়া জানানোর ওয়েবটুল হিসেবে সারাহাহ’র ব্যবহার শুরু হলেও বর্তমানে সামাজিকমাধ্যম হিসেবে জনপ্রিয় হচ্ছে।

ফেসবুক ব্যবহারকারীরা নিশ্চয়ই ‘সারাহাহ’ থেকে পোস্ট করা বার্তা নিউজফিডে খেয়াল করেছেন। সারাহাহ আরবি শব্দ। এর অর্থ সৎ বা অকপটতা। কর্মক্ষেত্রে প্রতিক্রিয়া জানানোর ওয়েবটুল হিসেবে সারাহাহ’র ব্যবহার শুরু হয়েছিল। তরুণদের কাছে ইতোমধ্যে অ্যাপটি দারুণ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে প্রায়ই কোনো না কোনো অ্যাপ আলোচনায় আসে।

সারাহাহ হচ্ছে নাম-পরিচয় গোপন করে বার্তা পাঠানোর অ্যাপ। যখন কোনো ব্যবহারকারী অ্যাপটিতে নিবন্ধন করেন, তারা বন্ধুদের লিংক পাঠাতে বা অনলাইনে তা পোস্ট করতে পারেন। ওই লিংক ব্যবহার করে যে-কেউ গোপন বার্তা পাঠাতে পারেন। প্রেরকের পরিচয় জানার কোনো সুযোগ প্রাপকের কাছে থাকবে না। প্রাপক সরাসরি অ্যাপের মাধ্যমে কোনো জবাব দিতে পারবেন না। অ্যাপের মাধ্যমে পাওয়া বার্তাটির উত্তর দিতে হলে অন্য কোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বার্তাটি শেয়ার করে তারপর তাকে উত্তরটি দিতে হবে।

অ্যাপটি তৈরি করেছেন সৌদি আরবের তরুণ ডেভেলপার জায়ান আল-আবিদিন তৌফিক। অ্যাপটি ব্যবহার করে যাতে কোনো প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা তার চাকরিদাতা বা ঊর্ধ্বতনের কাছে পরিচয় গোপন করে প্রতিক্রিয়া জানাতে পারেন, সে লক্ষ্যে এটি তৈরি। যারা চাকরি হারানোর ভয়ে সামনাসামনি কিছু বলতে পারেন না, তাদের কিছু বলার সুযোগ করে দিতে অ্যাপটি তৈরি করা হয়েছে। পরে অবশ্য তৌফিক ভাবেন, অ্যাপটি শুধু কর্মীদের মধ্যেই নয়, ব্যক্তিগত পর্যায়েও ব্যবহার করা যেতে পারে। বন্ধু ও পরিচিতজনেরা গোপনে একে অন্যকে প্রতিক্রিয়া জানাতে পারবেন।

শুরুতে ওয়েবসাইট হিসেবে সারাহাহ তৈরি করেন তৌফিক। মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকা অঞ্চলে এটি জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। তবে পশ্চিমা দেশগুলোয় জনপ্রিয়তা পেতে আরো বাড়তি কিছু করার প্রয়োজন ছিল তৌফিকের। এ বছরের ১৩ জুন সারাহাহ অ্যাপটি আইওএস প্লাটফর্মে অ্যাপ স্টোর ও গুগল প্লেতে উন্মুক্ত করেন। অ্যাপটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। দ্রুততম সময়ে বিনামূল্যের অ্যাপ হিসেবে দুটি প্লাটফর্মের শীর্ষ তিনে উঠে আসে।

আরববিশ্ব জয় করার পর প্রতিনিয়তই বিশ্বজুড়ে বাড়ছে সারাহাহ ভক্তের সংখ্যা। বাংলাদেশে অ্যাপটি দেরিতে পরিচিতি পেলেও ইতোমধ্যেই ব্যবহারকারীদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তরুণ প্রজন্মের অনেকেই এখন ডুবে আছেন সারাহাহ অ্যাপের নেশায়। ফেসবুকে যারা ‘রেগুলার’ তারা নিশ্চয় সারাহাহ থেকে পাওয়া ম্যাসেজ নিয়ে দেয়া স্ট্যাটাস দিচ্ছেন।

অ্যাপটির ব্যবহারকারীরা নিজেদের পরিচয় গোপন রেখে পাঠাতে পারেন যেকোনো বার্তা। বিভিন্ন সাইবার সিকিউরিটি টিমের সদস্যদের মতে এই অ্যাপটি তার ব্যবহারকারীদের সুরক্ষা দিতে সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত নয়। পাশাপাশি পরিচয় গোপন রেখে বার্তা পাঠানোর সুযোগ থাকায় এতে সাইবার ক্রাইমসহ আরো অন্যান্য হয়রানির শিকার হতে পারেন গ্রাহকরা। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে আছে নারীরা।

সাধারণত নিজের প্রশংসা বা গুণের বহিঃপ্রকাশ ঘটানোর জন্য এই অ্যাপটি খুব দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন অনলাইন বিশ্লেষকরা । যদিও এই অ্যাপ হয়রানির দরজাকে আরো উন্মুক্ত করে দিয়েছে। গত বছর প্রিজমা অ্যাপ নিয়েও সরগরম অবস্থার সৃষ্টি হয় ফেসবুকে। এখন দেখার অপেক্ষা প্রযুক্তির দুনিয়ার সারাহাহ’র পরে আর কী আসে।

আপনার মন্তব্য দিন

আপনার ই-মেইল এড্রেস প্রকাশ হবে না। Required fields are marked *