‘নেইমারের জন্য এতো অর্থ ব্যয় প্রয়োজন ছিল না’

এসএম নিউজ অনলাইনঃ ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড নেইমারকে দলে ভেড়াতে প্যারিস সেইন্ট-জার্মেই যে পরিমান অর্থ ব্যয় করেছে বায়ার্ন মিউনিখ কখনই কোনো খেলোয়াড়ের পিছনে এত বিপুল পরিমান অর্থ লগ্নি করতো না বলে মন্তব্য করেছেন জার্মান চ্যাম্পিয়ন ক্লাবটির চেয়ারম্যান কার্ল-হেইঞ্জ রুমেনিগে। তার পরিবর্তে একটি স্টেডিয়ামে পিছনে তিনি এই অর্থ ব্যয় করতেন বলেও জানিয়েছেন জার্মানীর সাবেক এই অধিনায়ক।

বার্সেলোনা থেকে নেইমারকে দলে নিতে পিএসজি রেকর্ড ২২২ মিলিয়ন ইউরো খরচ করেছে যা ক্লাব ফুটবলে একটি ইতিহাস।

ইউরোপীয় ক্লাব এসোসিয়েশন (ইসিএ) এর প্রধান রুমেনিগে আরো বলেছেন, ট্রান্সফার ব্যয় যদি নিয়ন্ত্রনের বাইরে চলে যায় তবে সেটা ভবিষ্যতের জন্য খুব একটা সুখকর কিছু বয়ে আনবে না।

তিনি বলেন, ‘নেইমারের এই দলবদলের সময় আমি নিজেকে নিজেই প্রশ্ন করেছি, আসলে কোনটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ, নেইমার নাকি আঁলিয়াজ এরিনা। এক্ষেত্রে নিঃসন্দেহে আমি আঁলিয়াজ এরিনাকেই বেছে নিব, কারণ সেটাই আমার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বায়ার্ন মিউনিখে আমাদের ভিন্ন নীতি রয়েছে। সব মিলিয়ে নেইমারের পিছনে যে পরিমান অর্থ ব্যয় করা হয়েছে তা প্রয়োজনের তুলনায় খুব বেশি হয়ে গেছে।’

২০০৫ সালে বায়ার্ন তাদের নতুন স্টেডিয়াম নির্মাণে ৩৪৬ মিলিয়ন ইউরো ধার করেছিল। ১৬ বছরের সেই ধারের অর্থ ২০১৪ সালে একটু আগে ভাগেই তারা পরিশোধ করতে সক্ষম হয়। জুনে বায়ার্ন তাদের ক্লাব রেকর্ডে ট্রান্সফার বাবদ সর্বোচ্চ অর্থ ব্যয় করে ফ্রেঞ্চ জাতীয় দলের কোরেনটিন টোলিসোকে দলে ভিড়িয়ে। সেন্ট্রাল এই মিডফিল্ডারকে দলে নিতে বেভারিয়ান্সরা ৪১.৫ মিলিয়ন ইউরো খরচ করে।

রুমেনিগে জানিয়েছেন ট্রান্সফারের এই বিষয়টি নিয়ে ফিফা, ইউয়েফা, ইসিএ, লীগ ও পেশাদার খেলোয়াড় ইউনিয়নের অবশ্যই আলোচনায় বসা উচিত। ফুটবলের জন্য আমাদের আরো বেশি যুক্তিসঙ্গত আইন তৈরি করা উচিত। তা না হলে সমর্থকরাও ধীরে ধীরে ফুটবলের ওপর থেকে তাদের মনোযোগ হারিয়ে ফেলবে।

নেইমারকে কী কী লোভনীয় প্রস্তাব দিয়েছিল পিএসজি?
২২২ মিলিয়ন ইউরো দিয়ে নেইমারকে দলে ভিড়িয়েছে পিএসজি। এটা ফুটবলের দলবদলের ইতিহাসে একটি রেকর্ড তো বটেই, এর আগের সর্বোচ্চ যে রেকর্ডটি ছিল তা এর থেকে অর্ধেকেরও কম।

গোল ডট কম খবর দিচ্ছে, পিএসজিতে নেইমারের মূল বেতন হবে বছরে ৩০ মিলিয়ন ইউরো।

বার্সেলোনায় এর এক তৃতীয়াংশ পেতো নেইমার।

মুল বেতনের সাথে নেইমার পাবেন বেশ কয়েকটি বোনাস। আর থাকবে একটি প্রাইভেট জেট বিমান।

এই বিমানে চড়ে ইচ্ছে হলেই নেইমার উড়ে চলে যেতে পারবে ব্রাজিল, এমনই কথা।

এখানেই শেষ নয়। চমক আছে আরো।

জানা গেছে, পিএসজির বোর্ডের মালিকানাধীন হোটেল থেকে যে আয় হবে, তার একটা অংশও নেইমারকে দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

কেন বার্সেলোনা ছাড়লেন নেইমার?

ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, অর্থ একটা বড় কারণ। ইতিহাসে এত দাম এখনো কোনো ফুটবলারের ওঠেনি। নেইমার বেতনও পাবেন আকাশচুম্বী।

আরেকটি কারণ লিওনেল মেসি।

নেইমার অনেক ভালো ফুটবলার, কিন্তু লিওনেল মেসি এখনো বার্সেলোনায় এক নম্বর। সেই স্থান, মর্যাদা যে সহসা বদলাবে সে সম্ভাবনা নেইমার দেখছেন না। কিন্তু তিনি জানেন পিএসজিতে গেলে তিনি হবেন সেখানকার মধ্যমণি।

কিন্তু পিএসজিই বা নেইমারকে নিতে তহবিল উজাড় করতে প্রস্তুত কেন?

ক্রীড়া বিশ্লেষক মিহির বোস বলছেন, “ক্লাবগুলো এখন আর শুধু ফুটবল খেলেনা, তারা এখন একেকটি কোম্পানি।”

“এমন নয় যে নেইমারকে নিয়ে পিএসজি রাতারাতি বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ক্লাব হয়ে যাবে, চ্যাম্পিয়নস লীগ জিতে যাবে। কিন্তু এত পয়সা নিয়ে নেইমারের মত একজন ফুটবলারকে বার্সিলোনা থেকে ছিনিয়ে নিয়ে পিএসজি এটাই জানান দেবে যে তারাও শ্রেষ্ঠ ক্লাব হতে চায়, এবং সেই অর্থ শক্তি তাদের রয়েছে।”

তাছাড়া, নেইমারের মত ফুটবলারকে নিয়ে পিএসিজ এশিয়াতে নিজেদের পরিচিতি বিস্তৃত করতে চায়। নেইমারের নাম লেখা শার্ট বিক্রি করেও প্রচুর পয়সাও করতে পারবে পিএসজি। সুতরাং নেইমারের পেছনে রেকর্ড বিনিয়োগ থেকে যথেষ্ট মুনাফা করতে পারবে পিএসজি।

আপনার মন্তব্য দিন

আপনার ই-মেইল এড্রেস প্রকাশ হবে না। Required fields are marked *