পরিবার ফিরিয়ে নিতে চায় শিশুটিকে

জঙ্গলে খুঁজে পাওয়ায় মেয়েটিকে বলা হচ্ছিল বাস্তবের ‘মোগলি’। সত্যিটা হচ্ছে, ছোট্ট মেয়েটি জঙ্গলে বেড়ে ওঠেনি। কাল্পনিক মোগলির মতো কোনো কাহিনি নেই এখানে। শিশুটি মানসিক ভারসাম্যহীন। মানসিক ভারসাম্যহীনতার কারণেই সে নিখোঁজ হয়। এক বছর পর ওকে খুঁজে পেল পরিবার।

দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমে শিশুটির ছবি দেখে উত্তর প্রদেশের বাহরাইচ পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন হামিদ আলী শাহ নামের এক ব্যক্তি। তিনি নিজেকে শিশুটির দাদা বলে পরিচয় দেন। পরে দ্য টেলিগ্রাফে হামিদ আলী বলেছেন শিশুটির হারিয়ে যাওয়ার ঘটনা।

এর আগে টাইমস অব ইন্ডিয়া অনলাইনের খবরে জানানো হয়, গত ২৫ জানুয়ারি ভারতের উত্তর প্রদেশের বাহরাইচ এলাকার একটি বন থেকে একটি শিশু উদ্ধার করে পুলিশ। উপপরিদর্শক (এসআই) সুরেশ যাদব মতিপুর রেঞ্জের বন্য প্রাণীদের অভয়ারণ্য কাটারনিয়াঘাটে টহল দিচ্ছিলেন। সেখানেই খুঁজে পান শিশুটিকে। বানরের দলের সঙ্গে স্বাচ্ছন্দ্যেই ছিল সে। শিশুটিকে উদ্ধারের সময় বানরগুলো কিচিরমিচির করছিল। শিশুটিও চেঁচাচ্ছিল। অনেক চেষ্টার পরে পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করে। যখন ছোট্ট মেয়েটিকে পাওয়া যায়, তখন ওর গায়ে কোনো কাপড় ছিল না। লম্বা জটা চুল, বড় বড় নখ ছিল। কারও ভাষা বোঝে না। মানুষ দেখলে ভয় পায়। চার হাত-পায়ে হাঁটে। এতে ধরে নেওয়া হয়, ওর জীবনের গল্পটা হয়তো রুডিয়ার্ড কিপলিংয়ের অমর উপন্যাস ‘জাঙ্গল বুক’-এর প্রধান চরিত্র মোগলির মতো।

তবে হামিদ আলী জানালেন আসল সত্যিটা। শিশুটি আসলে উত্তর প্রদেশের কামলাপুর গ্রামের বাসিন্দা। ওর আরও পাঁচটি বোন এবং এক ভাই আছে। ওর বয়স নয় বছর। বাবা দিল্লিতে কাজ করেন। বাহরাইচ জঙ্গল থেকে কামলাপুরের দূরত্ব ২৮৫ কিলোমিটার। গত বছরের ২৮ মার্চ হঠাৎ করেই বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় সে। তারপর অনেক খুঁজলেও তার খোঁজ মেলেনি। ওই দিনই বাদশাপুর পুলিশ স্টেশনে নিখোঁজ ডায়েরি করে মেয়েটির পরিবার। কিন্তু খোঁজ মেলেনি।

শিশুটি চার হাত-পায়ে হাঁটে—এ কথা অস্বীকার করে হামিদ আলী বলেন, ও কেবল কথা বলতে পারেনি। অন্য কোনো অস্বাভাবিকতা নেই ওর। হামিদ আলীর অভিযোগ, ঘাড়ে দায়িত্ব না নেওয়ার জন্যই এসব বানিয়ে বলা হয়েছে। তাঁর মতে, পুলিশ চাইলেই তার পরিবারের সন্ধান করতে পারত। কিন্তু ‘মোগলি’ বলে চালিয়ে দিলে ঝামেলা এড়াতে চেয়েছে।

এদিকে পরিচয় মেলার আগে মানবাধিকারকর্মীরা ধারণা করছিলেন, প্রতিবন্ধী মেয়েশিশু বলে হয়তো বাচ্চাটিকে ইচ্ছে করে জঙ্গলে ফেলে গেছে তার পরিবার।

বর্তমানে লক্ষ্ণৌতে নির্ভান নামের একটি শিশু আশ্রমে রয়েছে শিশুটি। আশ্রম কর্তৃপক্ষ তার নাম দিয়েছে এহসাস। সমস্ত তথ্যপ্রমাণ দিয়ে আশ্রম থেকে বাড়িয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন হামিদ আলী।

আপনার মন্তব্য দিন

আপনার ই-মেইল এড্রেস প্রকাশ হবে না। Required fields are marked *