পিরোজপুরে যুবককে হত্যার দায়ে ৩ জনের ফাঁসি ৭ জনের যাবজ্জীবন

পিরোজপুর প্রতিনিধিঃ  পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের কালিকাঠি গ্রামে ২০১২ সালে ফিরোজ মাঝি (২২) নামের এক যুবককে হত্যার অভিযোগে ৩ জনের ফাঁসি ও ৭ জনের যাবজ্জীবনের আদেশ দিয়েছে পিরোজপুরের একটি আদালত।

সোমবার দুপুরে পিরোজপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ এস এম জিল্লুর রহমান এ আদেশ দেন। আদালত যাবজ্জীবন দন্ডাদেশপ্রাপ্তদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদন্ডাদেশ দেন।

ফাঁসির দন্ডাদেশপ্রাপ্তরা হলেন কালিকাঠি গ্রামের আমীর আলী খানের ছেলে রেজাউল খাঁন (২৪), মৃত আব্দুল লতিফ মোল্লার ছেলে শাহিনুর রহমান মোল্লা ওরফে শানু (৪০) এবং হাকিম বেপারীর ছেলে মিজান বেপারী (২৭)। এছাড়া যাবজ্জীবন দন্ডাদেশপ্রাপ্তরা হলেন একই গ্রামের রেজাউলের মা রেকসনা (৪০), হালিম আকনের ছেলে নিজাম আকন(১৮), আনছার উদ্দিন শেখের ছেলে সুমন শেখ (২৩), মোজাম্মেল হোসেন শেখের ছেলে ওমর ফারুক মিঠু (২৪), হাবিবুর রহমান মাতুব্বরের ছেলে মামুন মাতুব্বর(১৯), হাকিম তালুকদারের ছেলে লিমন তালুকদার (১৯) এবং সেলিমের ছেলে রাসেল(২২)।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, নিহত ফিরোজ সম্পর্কে রেজাউলের ফুফাতো ভাই এবং তারা একই এলাকায় বাস করতেন। ফিরোজের বোনকে দীর্ঘ দিন বিয়ে করার জন্য পীড়াপিড়ি করছিল রেজাউল। পরে ফিরোজের মা তার মেয়েকে অন্যত্র বিয়ে দিয়ে দেন। এ ঘটনায় ক্ষিপ্ত হন রেজাউল এবং তার মা। এ নিয়ে তাদের মধ্যে কয়েক দফা ঝগড়া বিবাদ ও সালিশের ঘটনাও ঘটে। সর্বশেষ ২০১২ সালের ৪ মার্চ রাতে মাহফিল থেকে ফেরার পথে পূর্ব থেকে ওঁৎ পেতে থাকা রেজাউলসহ ১২-১৪ জন যুবক ফিরোজকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়িভাবে কুপিয়ে বাড়ির উঠানে ফেলে রেখে চলে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ফিরোজের।

আদালত ১৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য প্রমাণাদি যাচাই শেষে এই রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় ১০ জন সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে আটজন উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত রেজাউল ও শানু উচ্চ আদালত থেকে জামিন নেয়ার পর পলাতক রয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট খান মো. আলাউদ্দিন বলেন এ রায়ে আমরা খুশি।

আপনার মন্তব্য দিন

আপনার ই-মেইল এড্রেস প্রকাশ হবে না। Required fields are marked *