‘প্রযুক্তি বিশ্বের শৃঙ্খলা নষ্ট করে দেবে’

এসএম নিউজ ডেস্ক: ফেসবুকের সাবেক ব্যবস্থাপক অ্যান্তনিও গর্সিয়া মার্টিনেজ। তিনি সিলিকন ভ্যালিতে বহু বছর ধরে কাজ করেছেন। তিনি মনে করেন, প্রযুক্তি এত দ্রুত বিকশিত হচ্ছে যে তা বিশ্বের শৃঙ্খলা নষ্ট করে দেবে। প্রযুক্তির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করবে মানুষ। আর সম্ভাব্য এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি থেকে বাঁচতে তিনি সিয়াটলের কাছে একটি দ্বীপে জমি কিনেছেন। খবর বিবিসির।
মার্টিনেজ বলেন, ‘আগামী ৩০ বছরের মধ্যে বিশ্বের অর্ধেক মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়বে। তখন একটি বিপ্লব ঘটতে পারে। তাই আমি এখানে জমি কিনেছি।’
যুক্তরাষ্ট্রের সানফ্রান্সিসকোর দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে এক শিল্পাঞ্চলের নাম সিলিকন ভ্যালি। সিলিকন ভ্যালি বিশ্বের নেতৃস্থানীয় উচ্চপ্রযুক্তির বাণিজ্যিক এলাকা। বিশ্বের বড় বড় সফটওয়্যার, ইলেকট্রনিকস পণ্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশই এখানে অবস্থিত। সিলিকন ভ্যালির প্রযুক্তিবিদদের প্রতিশ্র“তি হলো আরও ভালো বিশ্ব তৈরি করা। আর এই প্রযুক্তিই কিনা সবকিছুর ধ্বংস ডেকে আনবে!
সিলিকন ভ্যালিতে কর্মরত সাবেক কর্মকর্তা মার্টিনেজ মনে করেন, সামনে কি দিন আসছে তা তিনি দেখতে পাচ্ছেন। তিনি মনে করেন, প্রযুক্তি কীভাবে ব্যাপক হারে মানুষের পেশার ওপর হুমকি ডেকে আনবে তার সাক্ষী হচ্ছেন তিনি। মার্টিনেজ বলেন, ‘দেখুন, আমি ভবিষ্যৎ দেখতে পাচ্ছি।…পাঁচ থেকে ১০ বছরের মধ্যে কি ঘটতে যাচ্ছে আমি তা দেখতে পাচ্ছি। আপনি বিশ্বাস নাও করতে পারেন। তবে এটা ঘটবে। চালকবিহীন গাড়ির মতোই প্রযুক্তিগুলো মানুষকে কর্মহীন করে দেবে।’
চাকরি ছেড়ে দেওয়ার পর মার্টিনেজ সিয়াটলের কাছে একটি দ্বীপে আশ্রয়শিবির গড়ে তুলছেন। বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে সেখানে তিনি পালিয়ে যাবেন এবং নতুন জীবন শুরু করবেন।
এই বিশেষ জায়গাটি বেছে নেওয়ার কারণ হিসেবে মার্টিনেজ বলেন, কারণ এ জায়গার বিষয়ে মানুষ খুব একটা জানে না। এখানকার আবহাওয়াও আদর্শ, বেঁচে থাকার মতো খাবারের জোগান রয়েছে। মার্টিনেজের কাছে রয়েছে অস্ত্রও।
পরিস্থিতি যদি খারাপের দিকে যায়, তবে এই অস্ত্রও কি প্রয়োজন হবে? মার্টিনেজ বলেন, ‘অবশ্যই।’ ৫.৫৬ মিলিমিটারের গুলি দেখিয়ে মার্টিনেজ বলেন, ‘আমি আপনাকে নিশ্চয়তা দিতে পারি যে এটা হবে ভবিষ্যৎ আমেরিকার মুদ্রা।’ সিলিকন ভ্যালিতে কর্মরত অন্যরাও কি আপনার মতো একই কাজ করছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে মার্টিনেজ বলেন, ‘পুরোপুরি। আমিই একমাত্র ব্যক্তি নই।’ এটা তো স্বার্থপরতা। কারণ, বাকি অন্য সাধারণ মানুষের অবস্থা কী হবে? এ প্রশ্নের জবাবে মার্টিনেজ বলেন, ‘জীবন ছোট এবং আমরা সবাই মারা যাব।’
ভবিষ্যতে কী ধরনের ঝুঁকি রয়েছে, সে ব্যাপারে মার্টিনেজ বলেন, এই দেশে (যুক্তরাষ্ট্র) সব নারী-পুরুষ ও শিশুদের জন্য ৩০ কোটি অস্ত্র রয়েছে। বিশেষ করে যারা অর্থনৈতিকভাবে বাস্তুচ্যুত তাদের কাছেও অস্ত্র রয়েছে। কাজেই সহিংস বিদ্রোহ হতে পারে। তিনি বলেন, ‘আপনি ভাবতেও পারবেন না, আমরা প্রযুক্তি ও রাজনীতির একটি প্রতিযোগিতার মধ্যে রয়েছি। এবং প্রযুক্তিবিদেরাই বিজয়ী হচ্ছে। তারা এগিয়ে। তারা মানুষের পেশাকে ধ্বংস করে দেবে এবং এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করার আগেই তারা অর্থনীতিতে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি করবে।’

আপনার মন্তব্য দিন

আপনার ই-মেইল এড্রেস প্রকাশ হবে না। Required fields are marked *