বরিশালে শ্যালিকাকে গলা কেটে হত্যা ও স্ত্রীকে কুপিয়ে স্বামীর আত্মহত্যা

 বরিশাল প্রতিনিধিঃ বরিশাল নগরীর কাউনিয়া পুরানপাড়া এলাকায় ছয় বছরের শিশু শ্যালিকাকে গলা কেটে করে হত্যার পর স্ত্রীকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন সজিব মৃধা (২৫) নামের এক যুবক।

ঘটনাটি ঘটেছে আজ শুক্রবার ভোর রাতে।

আহত সুমাইয়াকে শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সজিব মৃধা উজিরপুর উপজেলার ধামুরা গ্রামের শফিজউদ্দিন মৃধার পুত্র। পেশায় তিনি ভ্যানচালক।

নিহত শিশু সাদিয়ার মা পারুল বেগম বলেন, তার স্বামী সিদ্দিক সিকদারের গ্রামের বাড়ি সজীবদের বাড়ির পাশে। দীর্ঘদিন ধরে তারা সপরিবারে কাউনিয়ার পুরানপাড়া মুহাম্মদ আলী খানের বাসায় ভাড়া থাকেন। দুই বছর আগে সজীব তার বড় কন্যা সুমাইয়াকে বিয়ে করে। সম্প্রতি সজীবের মা সখিনা বেগমের নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে সুমাইয়া বরিশালে তার কাছে এসে টেক্সাইল মিলে চাকরি নেয়।

তিনি আরো বলেন, গত আটদিন পূর্বে মেয়ে-জামাতা সজীব তাদের বাসায় বেড়াতে আসে। বৃহস্পতিবার রাতে মাছ ধরার কথা বলে শ্যালিকা সাদিয়াকে বাসার পাশের বাগানে নিয়ে যায় সজীব। এরপর রাত ১২টার দিকে সুমাইয়াকেও (১৯) ওই বাগানে নেয়া হয়।

পারুল বেগম আরো জানান, রাত তিনটা পর্যন্ত তারা বাসায় ফিরে না আসায় তাদের খোঁজাখুজি করে ভোর চারটার দিকে ওই বাগানে গিয়ে একটি চালতাগাছের সাথে জামাতা সজীবের গলায় ফাঁস দেয়া ঝুলন্ত লাশ এবং গাছের নিচে রক্তাক্ত জখম ও অচেতন অবস্থায় সুমাইয়াকে পরে থাকতে দেখেন তিনি। একইসময় তার ছোট মেয়ে সাদিয়াকে পাশের একটি ডোবায় গলা কাটা অবস্থায় লাশ দেখে তিনি চিৎকার শুরু করলে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে এসে পুলিশকে খবর দেন।

কাউনিয়া থানার ওসি নুরুল ইসলাম পিপিএম বলেন, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে নিহত সাদিয়া ও সবুজের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। অপরদিকে মুমূর্ষু অবস্থায় সুমাইয়াকে উদ্ধার করে শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ওসি আরো জানান, আহত সুমাইয়ার ঘাড়ে ও মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। তার মুখে ইট দিয়ে আঘাত করে থেঁতলে দেয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু ও একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ ধারণা করছে, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দাম্পত্য কলহের জের ধরে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

এদিকে জ্ঞান ফিরে আসার পর শুক্রবার বেলা আড়াইটার দিকে হাসপাতালে ভর্তি সুমাইয়া বেগম সাংবাদিকদের বলেন, কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই তার স্বামী সজিব প্রথমে তাকে ইট দিয়ে মুখে আঘাত করে। এতে সে জ্ঞান হারিয়ে ফেলার পর কি হয়েছে জানেন না।

আপনার মন্তব্য দিন

আপনার ই-মেইল এড্রেস প্রকাশ হবে না। Required fields are marked *