মির্জা ফখরুলের গাড়িবহরে হামলা

এসএম নিউজ ডেস্কঃ  পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি সমবেদনা ও সহায়তার জন্য রাঙ্গামাটি যাওয়ার পথে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের গাড়িবহরে সরকার সমর্থকেরা হামলা চালিয়েছে। এতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বিএনপির চার কেন্দ্রীয় নেতা নিয়ে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। কেন্দ্রীয় অপর তিন নেতা হচ্ছেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান রুহুল আলম চৌধুরী ও সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শামীম। রাঙ্গুনিয়া সদরের ইছাখালীতে এই হামলার পর বিএনপি প্রতিনিধিদল রাঙ্গামাটি না গিয়ে চট্টগ্রামে ফিরে আসে। এই হামলাকে ‘গণতন্ত্রের প্রতি আঘাত’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন মির্জা ফখরুল।
রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা জানান, রাঙ্গামাটি দুর্গত এলাকায় যাওয়ার পথে রাঙ্গুনিয়া ইছাখালী সদর এলাকায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের গাড়িবহরে হামলা চালানো হয়। সন্ত্রাসীরা দা, কিরিচ, লোহা, লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বিএনপি নেতাদের ওপর হামলা করেছে বলে আহত বিএনপি নেতারা জানান। হামলায় বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ছাড়াও কাপ্তাই উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো: দিলদার হোসেন, রাঙ্গুনিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক প্রচার সম্পাদক হাজী মো: ইলিয়াছ সিকদার, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি মো: আনছুর উদ্দিন, কাপ্তাই উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সুমনসহ ১৫ জন আহত হয়েছেন।
কাপ্তাই বিএনপির সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান মো: দিলদার হোসেন জানান, বিএনপি মহাসচিবের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল দুর্যোগ এলাকা কাপ্তাই হয়ে রাঙ্গামাটি যাওয়ার পথে সকাল সাড়ে ১০টায় ইছাখালী পৌঁছলে অর্ধশতাধিক লোক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় গাড়িবহরে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়। রাঙ্গুনিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক প্রচার সম্পাদক হাজী মোহাম্মদ ইলিয়াছ সিকদার বলেন, বর্বরোচিত হামলা থেকে কোনো মতে প্রাণ নিয়ে বেঁচে আসতে সক্ষম হয়েছেন বিএনপি নেতারা। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক কাপ্তাই বিএনপির উদ্যোগে এক প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এ দিকে ওই হামলার পর রাঙ্গামাটি যেতে না পেরে চট্টগ্রামে ফিরে আসেন মির্জা ফখরুলের নেতৃত্বাধীন সাত সদস্যের প্রতিনিধিদল। চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শামীম নয়া দিগন্তকে জানান, বিএনপি মহাসচিব বুকে-পীঠে আঘাত পান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর হাতে জখম হয় এবং তিনি নিজে মাথায় আঘাত পেয়েছেন।
গতকাল দুপুরে চট্টগ্রাম পৌঁছে প্রেস কাবে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন বিএনপি মহাসচিব। সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল বলেন, এটি গণতন্ত্রের প্রতি আঘাত। যারা মুক্ত চিন্তার কথা বলে, এ সরকারের খারাপ কাজগুলোর বিরোধিতা করে এবং গণতন্ত্রের পে সোচ্চারÑ এ আঘাত তাদের প্রতি। যারা জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে বিশ্বাস করেনÑ এ আঘাত তাদের প্রতি।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশে পাহাড়ধসে তিগ্রস্ত রাঙ্গামাটির দুর্গত এলাকা পরিদর্শনে বিএনপির ৭ সদস্যের প্রতিনিধিদল সকালে চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকে রাঙ্গামাটির উদ্দেশে রওনা হয়। পথে জানতে পারি সড়কে যে অংশ ভাঙন আছে, সেখান দিয়ে যাওয়া সম্ভব না। তাই কাপ্তাই গিয়ে সেখান থেকে নদী পথে রাঙ্গামাটি যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিই।
মির্জা ফখরুল বলেন, সকাল ১০টার দিকে প্রতিনিধিদল রাঙ্গুনিয়া থানা অতিক্রমের পরপরই ইছাখালী বাজারে ৩০-৪০ জন যুবক লাঠি, হকিস্টিক, রামদা, বড় বড় পাথর নিয়ে হামলে পড়ে। তারা বৃষ্টির মতো পাথর নিপে করতে থাকে এবং গাড়ির সামনে বড় বড় পাথর ফেলে ব্যারিকেড সৃষ্টি করে। এ সময় গাড়ি ভাঙচুর করা হয় ও শুভ আহত হয়। স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু রক্তাক্ত হয় এবং তিনি নিজেও আঘাতপ্রাপ্ত হন।
তিনি বলেন, এই হামলার মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের চরিত্র আবার ফুটে উঠেছে। সব সময় মুখে গণতন্ত্রের কথা বলে এলেও তারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। ভিন্নমতেও তারা বিশ্বাস করে না। সহনশীলতা বলতে তাদের মধ্যে কিছু নেই।
তিনি বলেন, আমরা তো সেখানে কোনো জনসভা করতে যাইনি। আমাদের পার্টির মিটিংও করতে যাইনি। যারা নিহত হয়েছেন সেসব পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা জানাতে যাচ্ছিলাম।
এ ধরনের হামলা অবিশ্বাস্য এবং দুঃস্বপ্নের মতো উল্লেখ করে তিনি বলেনÑ আমাদের পর্যায়ে আক্রমণ হচ্ছে। আমাদের অবস্থা যদি এই হয়, সাধারণ মানুষের তাহলে কি অবস্থা? সুষ্ঠু চিন্তা, মুক্তচিন্তা যারা করেন এই সরকার তাদের সহ্য করছে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই ফ্যাসিস্ট সরকারকে বিদায় দিতে পারলেই তা হবে এই আক্রমণের প্রতিবাদ।
সংবাদ সম্মেলনে আমীর খসরু বলেন, এক দিকে দেশ ও জাতির সমস্ত রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক অধিকার খর্ব করা হয়েছে। অন্য দিকে দুর্গত মানুষের পাশে আমরা দাঁড়াতেও পারব না। আপনি এখন ত্রাণও দিতে পারবেন না।
একটি দলের শীর্ষস্থানীয় নেতা সেক্রেটারি জেনারেলের ওপর এ আক্রমণ। এরপর আর বাকি থাকল কি? এরপর কি আর কোনো রাজনীতি থাকে? এরপর তারা কি চায়? হামলাকারীরা জয় বাংলা সেøাগান দেয় বলেও তিনি দাবি করেন। তিনি বলেন, জাতিকে আজ ঐক্যবদ্ধ হতে হবে এই ফ্যাসিস্ট, সন্ত্রাসী সরকারের বিরুদ্ধে। সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, পাহাড়ে এত প্রাণহানির পর সরকারের উচিত ছিল রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা। জনগণের প্রতি তাদের কোনো মায়া-মমতা-দরদ নেই। পাহাড়ে তিগ্রস্তদের জন্য দলের প থেকে ত্রাণসহায়তা পরে পৌঁছে দেয়া হবে বলে জানান বিএনপি মহাসচিব।
সংবাদ সম্মেলনের পর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।

আপনার মন্তব্য দিন

আপনার ই-মেইল এড্রেস প্রকাশ হবে না। Required fields are marked *