মিসরে তিন মাসের জরুরি অবস্থা জারি

মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি দেশে তিন মাসের জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। দুটি গির্জায় গত রোববার জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বোমা হামলার পর সরকার এই ব্যবস্থা নিল।
তান্তা ও আলেক্সান্দ্রিয়া শহরে কপটিক খ্রিষ্টানদের গির্জায় রোববারের হামলায় কমপক্ষে ৪৪ জন নিহত হয়েছে। দেশটির সংখ্যালঘুদের ওপর সাম্প্রতিক কালে এটিই সবচেয়ে বড় সহিংসতা। রাজধানী কায়রোর একটি গির্জায় গত ডিসেম্বরেও জঙ্গিরা বোমা হামলা করে।
সিসি তিন মাসের যে জরুরি অবস্থা জারি করেছেন, তা পার্লামেন্টে এক সপ্তাহের মধ্যে অনুমোদন করে নিতে হবে। সিসি বলেন, জঙ্গিদের বিরুদ্ধে লড়াই ‘দীর্ঘ ও যন্ত্রণাদায়ক হবে’।
প্রেসিডেন্ট দেশের ‘অত্যাবশ্যক ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয়’ সেনা মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছেন। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানায়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গির্জায় হামলার পরিপ্রেক্ষিতে প্রাদেশিক নিরাপত্তাপ্রধানকে বরখাস্ত করে ওই পদে নতুন নিয়োগ দিয়েছেন।
সরকারি কর্মকর্তারা এ সহিংসতার নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, এমন ঘটনায় মিসরীয় সমাজে বিভেদ বাড়বে।
মিসর ২০১২ সালের আগে দশকের পর দশক ধরে জরুরি আইনের শাসনে ছিল। এ পরিস্থিতিতে গ্রেপ্তার ও নজরদারির ক্ষেত্রে পুলিশ বেশি ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে।
রোববারের হামলার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প টুইটারে লিখেছেন, ‘মিসরে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা খুবই বেদনাদায়ক। যুক্তরাষ্ট্র এর কঠোর নিন্দা জানায়। আমার বিশ্বাস, প্রেসিডেন্ট সিসি ঠিকমতো পরিস্থিতি সামাল দেবেন।’
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস আশা প্রকাশ করেছেন, দায়ী ব্যক্তিদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা হবে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ এক বিবৃতিতে মিসরে জোড়া বোমা হামলাকে ‘জঘন্য’ ও ‘কাপুরুষোচিত’ আখ্যা দিয়ে নিন্দা জানিয়েছে।
মিসরের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তান্তা শহরের মার গিরগিস গির্জায় প্রথম বোমা হামলায় ২৭ জন নিহত হয়েছে। জরুরি সেবা বিভাগের কর্মীরা সেখানে উদ্ধারকাজ চালানোর সময় আলেক্সান্দ্রিয়ার সেন্ট মার্কসের গির্জায় আরেকটি হামলা হয়। কপটিক খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের ধর্মীয় গুরু পোপ দ্বিতীয় তাওয়াদ্রোস সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তবে তিনি হামলার কিছু আগে চলে গিয়েছিলেন। ওই বিস্ফোরণে চার পুলিশ সদস্যসহ ১৭ জন নিহত হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, আত্মঘাতী একজন বোমা হামলাকারী এই বিস্ফোরণ ঘটান। প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিদের বয়ান, পুলিশ ওই হামলাকারীকে ধরে ফেলার পরপরই তিনি আত্মঘাতী হন।
খ্রিষ্টান বর্ষপঞ্জির অন্যতম পবিত্র দিন ‘পাম সানডে’ উপলক্ষে রোববার ওই দুটি গির্জায় জনসমাগম বেশি ছিল।
কপটিক খ্রিষ্টানরা মিসরের জনসংখ্যার প্রায় ১০ ভাগের এক ভাগ। তারা আগামী সপ্তাহে ইস্টার সানডে পালন করবে। এই সম্প্রদায় সম্প্রতি বেশ কয়েকবার জঙ্গি হামলার শিকার হয়েছে।

আপনার মন্তব্য দিন

আপনার ই-মেইল এড্রেস প্রকাশ হবে না। Required fields are marked *