রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দুই যুগ পার

এসএম নিউজ ডেস্কঃ বিশ্ব শরণার্থী দিবস আজ।দীর্ঘ দুই যুগের বেশি সময় পার হলেও রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রত্যাবাসন সমস্যার সমাধান হয়নি । এতে কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের অনিয়ন্ত্রিত বসবাসে  নানা সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে, দাবি স্থানীয়দের।
তবে রোহিঙ্গারাও চায়, সম্মানজনকভাবে নিজ দেশ মিয়ানমারে ফিরে যেতে। রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ানোর দাবি সংশ্লিষ্টদের। জেলা প্রশাসক জানান, মিয়ানমারের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে সরকার কাজ করছে।

কক্সবাজারের উখিয়ায় কুতুপালং ও টেকনাফের নয়াপাড়ায় অবস্থিত দু’টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিবন্ধিত শরণার্থীর সংখ্যা ৩২ হাজার। এর বাইরেও প্রায় ৫ লাখ অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা শরণার্থী রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, তবে কোন সংস্থার কাছেই নেই এর সঠিক পরিসংখ্যান। অন্যদিকে, মিয়ানমারে সহিংসতাসহ নানা কারণে প্রতিবছরই বাড়ছে রোহিঙ্গা শরণার্থীর সংখ্যা।

এদিকে রোহিঙ্গাদের অনিয়ন্ত্রিত বসবাস ও নানা অবৈধ কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ায় জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিসহ আর্থ-সামাজিক অবস্থার ওপরও বিরূপ প্রভাব পড়ছে । উখিয়ার বাসিন্দা রফিক উদ্দিন বলেন, ‘রোহিঙ্গারা এতবেশি প্রভাব বিস্তার করছে যে; তারা চুরি ডাকাতি ছিনতাই খুন মাদক ব্যবসাসহ এমন কোন অপরাধ নেই তারা করছে না। ফলে রোহিঙ্গাদের কারণে  উখিয়ার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটছে।’

এখানকার শফিকুর রহমান, ইমতিয়াজ ও হাবিব জানান, রোহিঙ্গাদের দ্বারা আমাদের অর্থনৈতিক, সামাজিক পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলার  চরম অবনতি ঘটছে। এখন রোহিঙ্গা ছেলেমেয়েরা বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করে পাসপোর্ট ও আইডি কার্ড সংগ্রহ করে বাংলাদেশের নাগরিক হয়ে যাচ্ছে।

উখিয়ার কোটবাজারের বাসিন্দা আহ্সান সুমন বলেন, রোহিঙ্গাদের অত্যাচারে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের মানুষ অসহায় অবস্থা জীবনযাপন করছে। এটি কিন্তু আমাদের জন্য খুবই দুঃখজনক।

টেকনাফের বাসিন্দা আব্দুর রহমান বলেন, ‘এখানে রোহিঙ্গা হচ্ছে একটি আতংকের নাম। দ্রুত সময়ের মধ্য যদি রোহিঙ্গাদের স্বদেশে ফেরত পাঠানো না হয়, তাহলে রোহিঙ্গারা এদেশে একটি বড় বিস্ফোরণ ঘটাবে।’

উখিয়ার কুতুপালং এলাকার ইউপি সদস্য বখতিয়ার আহমদ বলেন, ‘জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক কিছু সংগঠন তাদের নিজ স্বার্থ রক্ষার্থে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের দেওয়া সুযোগ-সুবিধার কারণে মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গা পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় গ্রহণ করছে।’

দীর্ঘ দিন ধরে নানা কারণে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মিয়ানমারে ফেরার বিষয়টি ঝুলে আছে। সবশেষ ২০১৪ সালের ৩১ আগস্ট পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মিয়ানমার-বাংলাদেশ সচিব পর্যায়ের বৈঠকের পর সিদ্ধান্ত হয় দু’মাসের মধ্যে ২,৪১৫ জন রোহিঙ্গাকে মিয়ানমার সরকার ফিরিয়ে নেবে। কিন্তু সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া শুরু হয়নি।

বালুখালী অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরের রমিজ উদ্দিন, শাহ আলম ও শুক্কুর আলী বলেন, ‘ মিয়ানমার আমাদের জন্মস্থান, আমরা মিয়ানমারেরই নাগরিক। ২৫ বছর আগে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে এসেছি। এখন নিজ দেশে ফিরে যেতে চাই।’

কুতুপালং অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরের খালেদা আক্তার, সামলা ও লতিফা বেগম বলেন, ‘মিয়ানমারে যেমন বৌদ্ধরা নাগরিকত্ব নিয়ে বসবাস করছে, ঠিক তেমনি আমরাও মিয়ানমারে নাগরিকত্ব নিয়ে বসবাস করতে চাই। কারণ আমরাও মিয়ানমারের নাগরিক। সরকার আমাদেরকে নাগরিকত্ব ফিরিয়ে দিয়ে স্বদেশে ফিরিয়ে নিয়ে যাক এটাই আমাদের  দাবি।’

এদিকে আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলোর ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ উল্লেখ করে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংগ্রাম পরিষদ।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংগ্রাম পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা মাহামুদুল হক চৌধুরী জানান, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ানো দরকার। তা না হলে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধান কোন দিনও হবে না। বাংলাদেশ সরকারের উচিত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মাধ্যমে মিয়ানমার সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা।

আপনার মন্তব্য দিন

আপনার ই-মেইল এড্রেস প্রকাশ হবে না। Required fields are marked *