সারা দিন বসে কাজ করলে শরীরের কী কী ক্ষতি হয়?

অফিসে লম্বা সময় বসে কাজ করতে হয়। অনেকে তো এক নাগাড়ে তিন-চার ঘণ্টা বসে থাকেন। এতে অজান্তেই শরীরের বারোটা বাজছে।

লন্ডনের ‘ফর্ম ক্লিনিক’, যেখানে মূলত ফিজিওথেরাপি ও অস্টিওপ্যাথির চিকিৎসা করা হয়। ক্লিনিকের ডাইরেক্টর মোহাম্মদ তাহা, যিনি নিজে একজন অভিজ্ঞ অস্টোপ্যাথ, এক আন্তর্জাতিক ওয়েবসাইটে জানিয়েছেন, মানবদেহে ৩৬০ জয়েন্ট ও ৭০০ মাসল রয়েছে। এবং এদের নড়াচড়ার উপরে নির্ভর করে ভাসকুলার ও নারভাস সিসটেম।

যুক্তরাজ্যের এক নামী অনলাইন ফার্মেসি, মেড এক্সপ্রেসের জেনারেল প্র্যাক্টিশনার ক্লেয়ার মরিসনও প্রায় একই কথা বলেছেন।

এক ঝলকে দেখে নেয়া যাক, দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করার ফলে শরীরের কোন অংশের কী রকম ক্ষতি হয়—

কাঁধ ও পিঠ
মোহাম্মদ তাহার মতে, কোনো মানুষ তিন-চার মিনিটের বেশি সোজা হয়ে বসে থাকতে পারে না। এর ফলে, শিঁড়দাড়ার লিগামেন্টের বেশ ক্ষতি হয়। সাথে পিঠের মাসলেও বেশ চাপ পড়ে। যাঁরা কম্পিউটারে কাজ করেন, তাঁদের ক্ষেত্রে পিঠ, কাঁধের সাথে সমস্যা দেখা দেয় ঘাড়েরও।

কোমর ও পা
বেশিক্ষণ বসে থাকলে, কোমরের নীচের অংশের মাসল ও পায়ের মাসল ধীরে ধীরে ক্ষয়ে যায়। এর ফলে, হিপ-জয়েন্টের সমস্যা দেখা দেয়। এর সাথে রক্ত চলাচলেও সমস্যা হয়। যার ফলে পায়ের গোড়ালি ফুলে যায়।

হৃদযন্ত্র
দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় মানুষের হার্ট সব থেকে ভাল কাজ করে। কিন্তু, সারাক্ষণ বসে কাজ করার ফলে, মানুষ হার্টের নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে বর্তমানে। মোহাম্মদ তাহার কথায়, অনেকক্ষণ বসে থাকার ফলে, লিপোপ্রোটিন লিপেস নামে একটি এনজাইম অকেজো হয়ে পড়ে। এর ফলে, হার্টে ব্লকেজ হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

ফুসফুস
সারা দিন প্রায় একই ভঙ্গিমায় বসে থাকার ফলে, ফুসফুসে পরিমাণে কম অক্সিজেন ঢোকে। এর ফলে ফুসফুসের আয়তনও ধীরে ধীরে সঙ্কুচিত হতে থাকে।

মস্তিষ্ক
ফুসফুসে কম অক্সিজেন ঢোকার ফলে, মস্তিষ্কেও তার প্রতিফলন ঘটে। অর্থাৎ, ব্রেনেও অক্সিজেনের সাপ্লাই কম হয়, যার ফলে ব্রেনের কর্মক্ষমতা কমে যায়। এর ফল দেখা যায় সমগ্র শরীর জুড়ে।

অগ্ন্যাশয়
দিনের বেশির ভাগ সময়ে বসে থাকার ফলে, ইনসুলিন হরমোন কমতে শুরু করে। এই হরমোন তৈরি হয় অগ্ন্যাশয় বা প্যানক্রিয়াস থেকে। শরীরের গ্লুকোজ ভাঙতে সাহায্য করে ইনসুলিন। কিন্তু, ইনসুলিন তৈরি না হওয়ার ফলে ডায়াবেটিস হওয়ার হার বেড়ে যায়।

পাচনতন্ত্র
সারাক্ষণ বসে কাজ করার ফলে পেট সঙ্কুচিত হয়ে থাকে। যার ফলে খাবার হজম হতে সমস্যা দেখা দেয়। এর ফলে গ্যাস, বদহজম, এমনকী কনস্টিপেশনের সমস্যাও হয়।

প্রতিরোধ ও প্রতিকার
বেশি সময় ধরে যারা বসে কাজ করেন, তাদের জন্য অনেকে অনেক ধরনের প্রতিকার সাজেস্ট করেন। যেমন, প্রতি এক ঘণ্টা অন্তর দশ মিনিটের জন্য উঠে দাঁড়ানো, সম্ভব হলে একটু হাঁটাচলা করা।

মোহাম্মদ তাহাও এর ব্যতিক্রম নন। তিনিও কয়েকটি সহজ উপায় বাতলেছেন, অল্প হলেও, সুস্থ থাকার জন্য—
১। ফোনে কথা বলার সময়ে চেয়ার ছেড়ে দাঁড়িয়ে পড়ুন।
২। প্রতি ৩০ মিনিট অন্তর, নিজের জায়গাতেই কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকুন মিনিট দুই-তিনের জন্য।
৩। মিটিং থাকলে চেষ্টা করুন তা দাঁড়িয়ে করতে। উপায় থাকলে ওয়াকিং মিটিং করতে পারেন।
৪। বসার সময়ে চেষ্টা করুন যথাসম্ভব সোজা হয়ে বসার।
৫। বসার চেয়ার ও কাজের টেবিল যেন শারীরিক কোনও অসুবিধা না ঘটায়। অর্থাৎ, কাজের সময় অসুবিধা না হওয়াটা খুবই জরুরি।

আপনার মন্তব্য দিন

আপনার ই-মেইল এড্রেস প্রকাশ হবে না। Required fields are marked *