হোয়াইটওয়াশ আর আত্মসমর্পণে শেষ ওয়ানডে সিরিজ

দক্ষিণ আফ্রিকা ছোট কোনো দল নয়; ওয়ানডে র‌্যাংকিংয়ে এক নম্বর দল। তাদের বিপক্ষে তাদের মাটিতে বড় কিছু করে ফেলা বাংলাদেশের জন্য আপাতত একটু বাড়াবাড়ি চিন্তা।

তবে ছোট ছোট কিছু করা যেত যা দর্শক-সমর্থকরা অনেকদিন মনে রাখতে পারেন। কিন্তু টেস্ট সিরিজের পর এবার ওয়ানডেতেও হোয়াইটওয়াশ হতে হলো টাইগারদের। ৩ ম্যাচের সিরিজে মুশফিক ছাড়া আর কেউ মনে রাখার মত কিছু করতে পারেননি। যা করেছেন সেটা কেবল আত্মসমর্পণ।৩৭০ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে ৩৯ ওভারে মাত্র ১৬৯ রানেই থামল মাশরাফি বিন মুর্তজার বাংলাদেশ। প্রোটিয়ারা জয় পেল ২০০ রানের বিশাল ব্যবধানে। মাশরাফির নেতৃত্বের হাফ সেঞ্চুরির ম্যাচে এমন ছন্নছাড়া অবস্থাতেই দেখা দিল বাংলাদেশ। সফলতম এই অধিনায়ক এখন পর্যন্ত এমন বাজে পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন কিনা বলা মুশকিল।

কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় নেমে দ্বিতীয় ওভারেই ইমরুল কায়েসকে হারায় বাংলাদেশ।

প্যাটারসনের বলে বেহারদিনের হাতে ক্যাচ দেন ১ রান করা ইমরুল। ৬ রান করা লিটন দাসকেও এলবিডাব্লিউ করে প্যাভিলিয়নে পাঠান প্যাটারসন। সিরিজে প্রথম সুযোগ পেয়ে আবারও ব্যর্থ সৌম্য সরকার (৮) রাবাদার বলে মার্করামের তালুবন্দী হন। প্রথম দুই ওয়ানডেতে সেঞ্চুরি ও হাফ সেঞ্চুরি করা মুশফিক আজ ভরসা দিতে পারেননি। ফেলোকায়োর বলে আউট হয়ছেন মাত্র ৮ রান করে।মুশফিকের বিদায়ের পর মাহমুদ উল্লাহ রিয়াদও টানা ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে ২ রান করে অভিষিক্ত মুলডারের শিকার হন। ৬১ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে নিশ্চিত পরাজয় দেখে টাইগাররা। বেশ কিছুক্ষণ সাব্বিরকে নিয়ে ৬৭ রানের জুটি গড়ে লড়াই করেন সাকিব। কিন্তু ক্যারিয়ারের ৩৫তম হাফ সেঞ্চুরির পর ৬৩ রানে মার্করামের বলে ক্যাচ দেন তিনি। ঠিক আগের বলেই একই রকম শটে ক্যাচ দিয়ে জীবন পেয়েছিলেন। পরের বলেই আত্মহত্যা।

সাকিব আউট হওয়ার পর নূন্যতম লড়াইয়ের আশাটাও শেষ হয়ে যায়। ভালো খেলতে খেলতে মার্করামের দ্বিতীয় শিকার হন ৩৯ রান করা সাব্বির। খেলাটা এর আগেই শেষ হয়ে গেছে। বাকী ছিল আনুষ্ঠানিকতা। অধিনায়ক মাশরাফি আউট হন ১৭ বলে ৩ বাউন্ডারিতে ১৭ রান করে। তাসকিন (২) আর মেহেদী মিরাজের (১৩) বিদায়ে ১৬৯ রানে শেষ হলো বাংলাদেশের ইনিংস।

লন্ডন পার্কে টসে জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই বাংলাদেশি বোলারদের ওপর চড়াও হন দুই প্রোটিয়া ওপেনার। জুটি ছাড়িয়ে যায় শতরান। শেষ পর্যন্ত প্রোটিয়াদের দলীয় ১১৯ রানে বাভুমাকে (৪৮) ব্রেক থ্রু এনে দেন সিরিজে প্রথমবার সুযোগ পাওয়া অফ স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ। ৬৮ বলে ৭৩ রান করা কুইন্টন ডি ককও শিকার হন মিরাজের।

দুই ওপেনারের বিদায়ের দলের হাল ধরেন অধিনায়ক ফাফ ডু প্লেসিস এবং অভিষিক্ত এইডেন মার্করাম। পেশিতে টান লেগে ডু-প্লেসিসের (৯১) মাঠ ছাড়ার আগে দুজনের জুটিতে এসেছে ১৫১ রান। এইডেন মার্করাম টেস্টের মত অভিষেক ওয়ানডেতেও রান-আউট হয়েছেন। টেস্টে হয়েছিলেন ৯৭ রানে; এবার ৬৬ রানে।

উইকেট গেলেও রানের গতি কমেনি প্রোটিয়াদের। তবে আজ ব্যাট হাতে জ্বলে ওঠার আগেই রুবেল হোসেনের বলে মাশরাফির তালুবন্দী হন দ্বিতীয় ওয়ানডেতে সাইক্লোন বইয়ে দেওয়া এবিডি ভিলিয়ার্স (২০)। এরপর জোড়া আঘাতে অভিষিক্ত মুলডার (২) এবং ফিলোকায়োকে (৫) প্যাভিলিয়নে পাঠান তাসকিন আহমেদ। শেষ পর্যন্ত পেসার রাবাদার ১১ বলে ২৩ রানের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ৬ উইকেটে ৩৬৯ রান তোলে দক্ষিণ আফ্রিকা।

আপনার মন্তব্য দিন

আপনার ই-মেইল এড্রেস প্রকাশ হবে না। Required fields are marked *