২১ সালের মধ্যে সবার জন্য নিরাপদ পানি : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আগামী ২০২১ সালের মধ্যে সবার জন্য বিশুদ্ধ ও নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। এ লক্ষ্যকে সামনে রেখে ঢাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে নতুন করে খাল খনন করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে পুরাতন খালগুলোর সংস্কারের পাশাপাশি জলাধার সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।
আজ শনিবার সকালে রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে ঢাকা পানি সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। পানি সম্পদের সঠিক ব্যবহার ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ে আলোচনা এবং পারস্পরিক সম্পর্ক ও সহযোগিতা জোরদার করার লক্ষ্যে বিশ্বের ২৮টি দেশের অংশগ্রহণে আজ থেকে ঢাকায় দুই দিনের এই ‘ঢাকা পানি সম্মেলন’ শুরু হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, লবণাক্ত পানিপ্রবণ এলাকায় পুকুরের পানি ফিল্টার করে লবণাক্ততা দূর করা হয়েছে। সাতহাজার পুকুর এবং ৩২ হাজার ৬০০টি গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। বর্ষার পানি সংরক্ষণ করে ৪ হাজার ৭’০০টি জলাধার নির্মাণ করা হয়েছে। ঢাকার জন্য যেসব পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে-তা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজধানী ঢাকায় নতুন খাল খনন করা হচ্ছে এবং পুরাতন খাল সংস্কার এবং জলাধার সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। শিল্পাঞ্চল, বড় বড় আবাসিক এলাকায় জলাধার তৈরি, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, বর্জ্য ও দূষিত পানি নিষ্কাশনেরও পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। তাছাড়া বিভাগীয় শহরগুলোর উন্নয়নে যে কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে সে সম্পর্কে তিনি বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনাসহ সকল বিভাগীয় শহরে নিরাপদ পানি ভূ-উপরিস্থ পানি থেকে নিশ্চিত করার কার্যক্রম আমরা হাতে নিয়েছি। নাব্যতা হ্রাস প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ নদীতে ড্রেজিং কার্যক্রম চলছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার সকলের জন্য পানি সরবরাহ সুবিধা নিশ্চিত করার মাধ্যমে জনস¦াস্থ্যের উন্নয়নে নানামুখী কার্যক্রম গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে। পানি সম্পদের সমন্বিত ব্যবস্থাপনার জন্য আমরা এক’শ বছর মেয়াদি ‘বাংলাদেশ ডেল্টা প্লান ২০২১’ আমি একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। এই দীর্ঘমেয়াদী সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনায় আগামী এক’শ বছরে পানির প্রাপ্যতা বার ব্যবহার এবং প্রতিবেশগত বিষয় সমূহ বিবেচনায় রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, বৃহত্তর টেকসই উন্নয়ন কাঠামোর মধ্যে আন্তঃসংযোগ ও বিনিময়ের গৃহীত নীতি অনুযায়ী জাতীয়, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পর্যায়ে যেকোন উন্নয়ন প্রচেষ্টায় পানি অবিচ্ছেদ্য অংশ। পানি সংকট নিরসনের লক্ষ্যে এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকিতে বিপন্ন এলাকায় পানি সম্পর্কিত বিপর্যয় রোধে পানির সুষম বণ্টন ও কার্যকর ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে আন্তঃদেশীয় সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।
জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার অন্যতম একটি হলো ‘পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়নে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণকে সমর্থন ও সুদৃঢ়করণ’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শক্তিশালী স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা পানির সুষম ব্যবহার, বণ্টন ও অপচয়রোধে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে। তিনি বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহের পাশাপাশি উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে এ বিষয়ে স¦তঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানন।

আপনার মন্তব্য দিন

আপনার ই-মেইল এড্রেস প্রকাশ হবে না। Required fields are marked *